ধুলো ঝেড়ে, সোঁদা ঘাসে পেতেছি মাদুর ...

সৌজন্যের অভ্যাস আর শান্তিতে বিশ্বাস থাকলে যেকোনো মহল্লার যেকোনো প্রাপ্তমনস্ক ছেলে বা মেয়েই এই মাঠে খেলতে পারবে। খেলার ডাক না দিতে পারলেও অংশগ্রহণের জন্য আসতে কারো জন্য কোনো বাধা-নিষেধ বা রেষারেষি নেই। হোক খেলা, তবু সব খেলারও তো কিছু নিয়মনীতি আছে, তাই না? স্বাধীনতার একটা যমজ ভাই আছে, নাম দায়িত্ব। সেমতে, নীতির ওপর আস্থা রাখা গেলে নিয়মের ভার নিশ্চয়ই বেশি একটা কঠিন হবে না। আর, প্রয়োজনে কখনো বল/ব্যাট/গার্ডার/গ্লভস জাতীয় জিনিসপত্তর খেলোয়াড়ের নিজের ঘর বা গাঁট থেকে নিয়ে আসতে হ'তে পারে। তবে, সুঁই-আলপিন-ছুরি-চাকু-ইট-পাথর-ডাণ্ডা বহন ভীষণভাবে নিষিদ্ধ!

রবিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১০

[হিজরতপূর্ব] একপংক্তিকা -এক

"সেলিনা, ভাল্লাগে না!"
.........................................................

[পাদটীকা: জীবনে বহুবার আমার এই লাইনটি চিত্কার ক'রে বলতে ইচ্ছে হয়েছে বহু বহু সেলিনাকে, কিংবা উদ্দেশ্যহীনভাবে নিজ একান্তেও। তবে, এই একপদী কবিতাটি আমার নিজের সৃষ্টি না। এটা আমার অগ্রজ সহোদর, অকালে আত্নঘাতী হওয়া (মানুষ বা প্রাণী হিসেবে না, কবি হিসেবে) কবি, সাইফুল মেহেদী (খান)'র। ১৯৯৯/২০০০ সালের দিকের। এটার অন্য কিছু সবিস্তারও আছে অবশ্য, যা পরে কখনও বলবো অন্য কোনো পোস্টে প্রাসঙ্গিক হয়ে এলে। তবে, এই পোস্ট কিন্তু এক লাইনের, হ।]

(আদি পোস্টাইম @সচলায়তন: ২০০৯-০৯-১৯ ০১:২২)

[হিজরতপূর্ব] চর্চাপদ ০৬

-১. ধন্যবাদ প্রস্তাব
লিখতে ঢুকেই খেয়ালরসের বাবা, আর রক্তসম্পর্কে আধুনিক বাংলা চলচ্চিত্রের দাদাস্থানীয়, বহুমুখী সমবায় সমিতি প্রতিভা সুকুমার রায়বাবু'র ওপর ব্যানার দেখে অনেক ভালো লাগছে। জয় গুরু!
আর, সচল-মডারেটরদেরকে (বিশেষ ক'রে হিমুকে) তেলছাড়া তাওয়ায়-ভাজা পাঁচটা সাধুবাদ এবং ধন্যবাদ।

০. ভনিতা/কৈফিয়ত
শুনতে কারো কাছে অতিআদর্শবাদী, অতিশুদ্ধবাদী, আদিখ্যেতা এমনকি ন্যাকামোও মনে হ'তে পারে,

[হিজরতপূর্ব] আরেক প্রবাসী/বিশ্বায়িত সচলের আজ জন্মদিন!

নিজের "গ্লোবালাইজেশন" নামক দ্বিপদ কবিতায় সে লিখেছিল-
যদিও বাংলাদেশে হয় তার হিসু
মেড ইন ফ্রান্স তার টয়লেট টিস্যু!

তার অভিষেক বইয়ের ফ্ল্যাপ-জয়ঢাকে বিশ্বজিত্ ঘোষ স্যার (বাংলা বিভাগ, ঢা.বি.) প্রথম বাক্যেই তাকে প্রধানত চিহ্নিত করেছিলেন বিশ্বায়ন যুগের কবি হিসেবে। ঢা.বি.'র ইংরেজিশিক্ষিত [স্নাতক (সম্মান) এবং স্নাতকোত্তর] এই ভদ্রলোকের বিচরণ বিশ্বসাহিত্যে নিতান্ত কম নয়- সেটা এখানকার অনেকেই জানেন। ব্লগে দিনকেদিন তার করা বিদেশী কবিতার অনুবাদে তার ওরকম একটা ব্র্যান্ড ইমেজও পাওয়া গ্যাছে বেশ আগেই। গত একুশে বইমেলা'য় বের হওয়া তার দ্বিতীয় কবিতা-বইটিও "অনুবাদ কবিতা"। হ্যাঁ, ঠিক ধরেছেন, আর না-ধ'রে থাকলে এখনই ধরেন, সেই "কষ্টালজিয়া"র কবি মূর্তালা রামাত'র কথাই বলা হচ্ছে। বিশ্বায়ন খালি তার কাব্যচর্চায় না, এখন বসবাসেও। উচ্চতর শিক্ষার উদ্দেশ্যে (এবং আমার চোখে উচ্চজীবনের জন্যও) নিজেই এখন প্রবাসী (বা আমার চোখে বিশ্বায়িত) হয়েছে সে। "মেড-ইন"-এর সময়ও পেরিয়ে সে এখন সশরীরে, এমনকি সস্ত্রীশরীরে অস্ট্রেলিয়া'র সিডনি-তে অবস্থান করছে, আর ব্যস্ততায় একটু একটু ক'রে ডোজ কমিয়ে আমাদেরকে ভুলে যাচ্ছে।
[আর, আমার ব্যক্তি-কপাল-টা তো আরো খারাপ, মূর্তালা বেশ কয়বার আমাকে ওই দূরদেশ থেকে ফোন করেছে এর মধ্যে, কিন্তু একবারও ঠিকঠাক কথা বলতে পারিনি, কারণ ওই প্রতিটা সময় আমি অফিসে ভয়ানক লাস্ট-মিনিট-হারি'র উপরে ছিলাম!]

[হিজরতপূর্ব] চর্চাপদ ০৫

আর থার্সডে নাইট!

'বৃহস্পতিবার'! উচ্চারণ করতেই কেমন বড় বড়! বলছেই 'বৃহস্পতি'! তো, বড় তো হবেই, না? বিজ্ঞাপনের কাজের অফিসে বৃহস্পতিবার বিকাল-টা কখনই ছুটির ডাক না সেভাবে, কারণ পরের দুইদিন বন্ধ ব'লে বৃহস্পতিবারেই থাকে সর্বোচ্চ পজিটিভ-আউটপুট ('ইতিবাচক' আর 'ফলাফল' অর্থে না, প্রেসের স্ট্রিক্ট টার্মে 'পজিটিভ' আর 'আউটপুট'!) দেয়ার ভয়াবহ তাড়া! ক্লায়েন্ট মাত্রই চায় বৃহস্পতিবারে ক্রিয়েটিভ জিনিসের আইডিয়েশন বা ডিজাইন-লেআউট অ্যাপ্রুভ ক'রে দিয়েই রবিবারের ফাইন-মর্নিংয়ে লম্বা সহবাস-ঘুমের উঁচু হাইয়ের সাথে, হাইক্লাস চায়ের সাথে প্রডাকশন দেখবে আর মতামত োদাবে! মানে, শুক্র-শনির দিনগুলোয় যখন তারা সপরিবারে ফ্যান্টাসি কিংডমে হাট্টিমাটিমটিম করতে করতে সুখের ডিম পাড়বে, তখন তাদের রবিবারের ফাইন-মর্নিং আর গুড-ডে নিশ্চিত করতে আমাদের থাকতে হবে অ্যাডমেকারস আর প্রিন্টারসের সাথে কখনও সশরীরে কখনও অন্তত ফোনে লেগে- ঠেলাধাক্কায়, টানাপোড়েনে, আর তাগাদার পর তাগাদায়। আর এই শুক্র-শনিতে ক্লায়েন্টকে যেহেতু পাওয়া যাবে না বা যাতে শুক্র-শনিতে ক্লায়েন্টের আরামের মধ্যে বিরক্ত না করতে হয়- সেই কারণে, ক্লায়েন্ট সদয় হয়ে ঘাড়ের ওপর থাকতে থাকতে যা পারো অ্যাপ্রুভ করাও, তারপরে যদি পারো যতো পারো মুড়ি খাইও।

বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১০

[হিজরতপূর্ব] ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সং ভং চং (রঙ্গমঞ্চ চর্চাকড়চা ০১)

“জ্ঞান ও ক্ষমতা সম্পর্কের পরিপ্রেক্ষিতে ভাষাবাহিত অভিব্যক্তি সর্বদাই স্ববিরোধী। ভাষার মধ্য দিয়ে দ্যোতিত অর্থ একমাত্র সত্য নয় বলেই ভাষা নিজেকেও নাকচ করতে থাকে। আর তাই ‘লোকনাট্য’ পরিভাষাটি হয়ে ওঠে প্রশ্নবিদ্ধ। কেন না এই নামকরণের নেপথ্যে সঞ্চালিত থাকে আধুনিকতাবাদী ঔপনিবেশিক নাগরিক মনোভঙ্গির হেজিমনি, কিংবা সম্প্রসারিত ও সুনির্দিষ্ট অর্থে- জ্ঞান উত্পাদন সংক্রান্ত ক্ষমতা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ জ্ঞান, ভাষা ও ক্ষমতার পারস্পরিক নিবিড় ঘনিষ্ঠ মিতালীর জটিল ও বহুস্তরায়িত এই বাস্তবতার মধ্যেই বিদ্যমান। তাই, ‘লোকনাট্য’র প্রাতিষ্ঠানিক অধ্যয়ন ও অনুশীলনে ধ্যানস্থ হতে গিয়ে